মাসবূক ব্যক্তি ইমামের সাথে সালাম ফিরিয়ে ফেললে তার হুকুম কি?

السلام عليكم ورحمة الله وبركاته

হযরত মুফতী সাহেব

প্রশ্ন: একজন মাসবূক ব্যক্তি ইমামের সাথে সালাম ফিরিয়ে ফেলেছেন। এখন কি তাকে নামাযের শেষে সেজদা সাহু আদায় করতে হবে নাকি সেজদা সাহু আদায় না করলেও তার নামায সহীহ হয়ে যাবে। সবিস্তারে বুঝিয়ে বললে উপকৃত হব। আল্লাহ তায়ালার কাছে আপনার নেক হায়াত কামনা করছি। 

الجواب باسم ملهم الصدق والصواب

উত্তরঃ এই মাসআলায় প্রথমত দুটি সুরত বা অবস্থা রয়েছে। 

  • এক) হয়তো ঐ মাসবূক ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ইমামের সাথে সালাম ফিরিয়েছেন।
  • দুই) নয়তো ঐ মাসবূক ব্যক্তি ভুলবশতঃ ইমামের সাথে সালা ফিরিয়েছেন। 

আমরা সহজে বুঝার স্থার্থে প্রতিটি সুরত ও অবস্থার ভিন্ন ভিন্ন হুকুম বর্ণনা করছি। 

এক) যদি ঐ মাসবুক ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ইমামের সাথে সালাম ফিরিয়ে থাকেন। “ইচ্ছাকৃত” এই কথাটির অর্থ হলো- তার মাথায় এই বিষয়টি উপস্থিত থাকা যে “তিনি মাসবূক, ইমামের সালাম ফেরানোর পর তাকে বাকী নামায আদায় করতে হবে”। এই বিষয়টি মনে থাকা সত্বেও, তিনি ইমামের সাথে সালাম ফিরিয়ে ফেলেছেন।  তাহলে তার নামায বাতিল হয়ে গিয়েছে। পুনরায় তাকে ঐ নামায আদায় করতে হবে। 

দুই) যদি তিনি ভুলবশতঃ ইমামের সাথে সালাম ফিরিয়ে ফেলেন তাহলে ঐ মাসবুক ব্যক্তির নিম্নোক্ত তিনটি অবস্থার কোন একটি অবশ্যই হবে। তিনি হয়তো 

  1. ইমামের আগে সালাম ফিরিয়েছেন।
  2. ইমামের সাথে সালাম ফিরিয়েছেন।
  3. ইমামের পরে সালাম ফিরিয়েছেন। 

উপরোক্ত তিন অবস্থার মধ্য হতে প্রথম দু্ই অবস্থায় ঐ মাসবুক ব্যক্তিকে সেজদা সাহু দিতে হবে না। কারণ তিনি তখনও ইমামের মুক্তাদি। আর এক্তেদা অবস্থায় মুক্তাদির অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে ইমাম-মুক্তাদি কারো উপরেই সেজদা সাহু ওয়াজিব হয় না। 

অপরদিকে ৩য় অবস্থায় ঐ মাসবূক ব্যক্তিকে সেজদা সাহু দিতে হবে। কারণ, তখন ইমাম সাহেব নামায শেষ করে ফেলেছেন এবং ঐ মাসবুক ব্যক্তি একজন মুনফারিদ হয়ে গিয়েছেন। যার কোন ইমাম থাকে না। সুতরাং একজন মুনফারিদ তার নামাযে কোন ভুল করলে যেমন সেজদা সাহু ওয়াজিব হয় ঠিক তেমনি ঐ মাসবূক ব্যক্তির ভুলের কারণে তার উপরও সেজদা সাহু ওয়াজিব হবে। 

আশা করি বুঝতে পেরেছেন। 

الأدلة الشرعية

(শরয়ী দলীলসমূহ)

أخرج عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنِ الثَّوْرِيِّ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ فِي الرَّجُلِ يَفُوتُهُ مِنَ الصَّلَاةِ شَيْءٌ ثُمَّ يُسَلِّمُ نَاسِيًا قَالَ: «يَقُومُ فَيَبْنِي، ثُمَّ يَسْجُدُ سَجْدَتَيِ السَّهْوِ»

  • সূত্র: মুসান্নাফে আব্দির রাজ্জাক
  • খন্ড: ২
  • পৃষ্ঠা: ৩১৬
  • হাদীস নং: ৩৫১১

المسبوق بركعة إذا ‌سلم ‌مع ‌الإمام ‌ساهياً لا يلزمه سجود السهو؛ لأنه مقتد بعد، وإن سلم بعد الإمام كان عليه السهو؛ لأنه صار منفرداً

  • সূত্র: আল মুহীতুল বুরহানী
  • খন্ড: ২
  • পৃষ্ঠা: ২০৮

وإذا سلم المقتدي المسبوق حين سلم الإمام ساهيا بني على صلاته وعليه سجود السهو وفي الحجة عندهما. وقال محمد: لا يجب. قيل هذا إذا سلم بعد ما سلم الإمام وفي الكبرى: وهو المختار: فأما إذا سلم مع الإمام – وفي شرح الطحاوى: أو قبله- فلا سهو عليه.

  • সূত্র: ফাতাওয়া তাতারখানিয়া
  • খন্ড: ১
  • পৃষ্ঠা: ৬৪৫

وَلَوْ سَلَّمَ سَاهِيًا إنْ بَعْدَ إمَامِهِ لَزِمَهُ السَّهْوُ وَإِلَّا لَا

  • সূত্র: রদ্দুল মুহতার আলাদ্দুররিল মুখতার / ফাতাওয়ায়ে শামী / হাশিয়াতু ইবনে আবেদীন /
  • খন্ড: ১
  • পৃষ্ঠা: ৬৪৫

وَمِنْ أَحْكَامِهِ أَنَّهُ لَوْ سَلَّمَ مَعَ الْإِمَامِ سَاهِيًا أَوْ قَبْلَهُ لَا يَلْزَمُهُ سُجُودُ السَّهْوِ؛ لِأَنَّهُ مُقْتَدٍ، وَإِنْ سَلَّمَ بَعْدَهُ لَزِمَهُ، وَإِنْ سَلَّمَ مَعَ الْإِمَامِ عَلَى ظَنِّ أَنَّ عَلَيْهِ السَّلَامَ مَعَ الْإِمَامِ فَهُوَ سَلَامُ عَمْدٍ فَتَفْسُدُ كَذَا فِي الظَّهِيرِيَّةِ

  • সূত্র: বাহরুর রায়েক শরহে কানযুদ দাকায়েক
  • খন্ড: ২
  • পৃষ্ঠা: ২৮

ولو سلم المسبوق مع الإمام ينظر إن كان ذاكرا لما عليه من القضاء فسدت صلاته وإن كان ساهيا لما عليه من القضاء لا تفسد صلاته؛ ‌لأنه ‌سلام ‌الساهي فلا يخرجه عن حرمة الصلاة. كذا في شرح الطحاوي في باب سجود السهو

  • সূত্র: ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী/ ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া
  • খন্ড: ১
  • পৃষ্ঠা: ৯৮

وَلَوْ ‌سَلَّمَ ‌مَعَ ‌الْإِمَامِ ‌سَاهِيًا أَوْ قَبْلَهُ لَا يَلْزَمُهُ سُجُودُ السَّهْوِ، وَلَوْ سَلَّمَ مَعَ الْإِمَامِ عَلَى ظَنِّ أَنَّ عَلَيْهِ السَّلَامَ مَعَ الْإِمَامِ فَهُوَ سَلَامُ عَمْدٍ فَتَفْسُدُ

  • সূত্র: দুরারুল হুক্কাম শরহু গুরারুল আহকাম
  • খন্ড: ১
  • পৃষ্ঠা: ৯৩

উপরে আমরা শরয়ী বিভিন্ন দলীল-প্রমানীদির ভিত্তিতে আপনার প্রশ্নের পরিপূর্ণ ও সর্বোত্তম উত্তর দেয়ার চেষ্টা করেছি মাত্র। 

والله أعلم بالصواب

Related Articles

ফার্সি ক্রিয়াপদ বা صيغه গঠন পদ্ধতি। এক পেজেই শুরু থেকে শেষ।

বিষয়ঃ فعل ماضي বা অতীত কাল প্রশ্নঃ فعل ماضي বা অতীতকালের ক্রিয়া কাকে বলে? উত্তরঃ فعل এর যে রূপ দ্বারা অতীতকালে কোন কাজ হয়েছে বা…

বর্তমানে তারাবীহ নামায ৮ রাকাত নয়: আল্লামা ইবনে তাইমিয়া রহ.।

আমি গত ২০/০৩/২০২৩ ইং তারিখে একটি স্যোশাল মিডিয়াতে ৮ ও ২০ রাকাত তারাবীহ নামায নিয়ে আল্লামা আহমাদ ইবনে তাইমিয়া রহ. এর একটি উদ্ধৃতি দেখতে পাই।…

পূর্ববর্তী ইমামগণের মতভিন্নতায় বিভেদ ছিল, বিচ্ছিন্নতা নয়!

সুপ্রিয় পাঠক! সামান্য মত পার্থর্ক্যরে জের ধরে সাধারণ সমাজের কথা বলা তো বাহুল্যই, আমাদের ওলামা কেরামের মাঝেও যে কী ধরনের গিবত-পরনিন্দা, বকাবাজি আর গালবাজি দেখা…

চরমোনাই পীর সৈয়দ ফজলুল করীম রহ. এর জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো।

সুপ্রিয় পাঠক! ২৬ নভেম্বর ২০০৬ সাল। আমি বন্ধুদের সাথে মরহুম চরমোনাই পীর সাহেব সৈয়দ ফজলুল করীম রহ. এর জানাযায় উপস্থিত হতে পেরেছিলাম। জানাযা শুরুর পূর্বে…

রোযা অবস্থায় রক্ত দেয়ার হুকুম কি? এতে কি রোযা ভেঙ্গে যায়?

السلام عليكم ورحمة الله وبركاته মাননীয় মুফতী সাহেব প্রশ্ন: সামনে রমযান মাস। আমার কোন একজন আত্মীয়ের জন্য রক্ত দিতে হতে পারে। তাই আমার প্রশ্ন হলো-…

Responses

Your email address will not be published. Required fields are marked *