কল্যাণমুখী মতভিন্নতা যেভাবে বিচ্ছেদ ও বিরোধিতায় রূপ নিল।

এটি আর্টিকেলের ২য় অংশ। প্রথম অংশটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন। 

যখন আমি লেখাটি অনুবাদ করি তখন আমি “জালালাইন জামাতের” একজন সাধারণ ছাত্র। নিজেকে ও নিজের শ্রমকে অনুভব করতে চেয়েছিলাম। সেই ইচ্ছে থেকে হযরত আব্দুল ফাত্তাহ আবূ গুদ্দাহ রহ. এর একটি ছোট্ট কিতাব অনুবাদ করতে শুরু করি।আমার সেই সামান্য অনুবাদটি এখানে আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি মাত্র। আশা করি, আপনাদের উপকারে আসবে। ইখতেলাফকে আমরা নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে পারব ইনশাআল্লাহ। 

হযরত আব্দুল ফাত্তাহ আবূ গুদ্দাহ রহ. ইখতেলাফ (কল্যানমুখী মতভিন্নতা) সম্পর্কে এভাবেই লিখতে শুরু করেছেন_

কল্যানমুখী মতভিন্নতা থেকে উম্মাহ যখন ছিটকে পড়েছিল।

এটা ছিল তৃতীয় শতাব্দীর অবস্থা। সময় তার ঘূর্ণন বহাল রাখল ঠিক। কিন্তু তৃতীয় শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে অবস্থার পরিবর্তন হতে শুরু করল। যে ইখতেলাফ ও মুনাযারার উদ্দেশ্য ছিল পারস্পরিক কল্যাণকামীতা। একসময় অবস্থা এই দাঁড়াল যে তা ঝগড়া আর বিরোধীতার রূপ পরিগ্রহ করল। যেখানে হৃদ্যতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের সাথে হুজ্জাত ও দলীলের মাধ্যমে দলীলকে খণ্ডন করার জ্ঞানীসুলভ “প্রত্যাখ্যান-নীতি” গ্রহণই ছিল কাম্য ও কর্তব্য। সেখানে পরস্পরে বিদ্রুপাত্মক উপাধি দান, নিন্দা-জ্ঞাপন, গাল-বাজি,অপবাদ আর কুৎসা রটনার মতো জঘন্য সব বিষয় জায়গা করে নিল।

ইখতেলাফ হলো সমস্যার সুন্দর-সমাধানের জন্য। তাকে করে নেয়া হলো বিরোধ আর বিচ্ছিন্নতার প্রধান কারণ।

তৃতীয় শতাব্দীর শেষার্ধে সর্বপ্রথম এই দৃশ্যের লক্ষণ দেখা যায়

ইমাম আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম বিন কুতাইবা আল কাতেব আদ দিনাওয়ারীর (জন্মঃ২১৩হি.-মৃত্যুঃ২৭৬হি.) যুগে সর্বপ্রথম এই দৃশ্যের লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়। এ কারণে তিনি সরচিত গ্রন্থ- الاحتلاف في اللفظ والرد على الجهمية والمشبهة (আল ইখতেলাফ ফিল লাফযী ওররদ্দী আলাল জাহিময়্যা ওয়াল মুশাব্বিহা) এর ভুমিকায় নিজের কষ্ট ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেছেন- আমরা আশ্রয় প্রার্থনা করি শয়তানের কুমন্ত্রণা, প্ররোচনা, ধোঁকা ও প্রতারণার চমৎকারিত্ব ও সৌন্দর্য থেকে। সে (শয়তান) তো এই উম্মতের উপর তার ইচ্ছাকে সত্য প্রমাণিত করেছে। নিজের (শয়তানের) অশ্বারোহী ও পদব্রজী সঙ্গীদেরকে তাদের (উম্মাহর) বিরুদ্ধে জড়ো করেছে। যা দ্বারা (শয়তান) প্রতিটি ঘাটিতে তাদের (উম্মাহর) জন্য প্রহরা বসিয়েছে। প্রতিটি টিলা ও উঁচু স্থানে (ফাঁদ) পেঁতে রেখেছে। আর শয়তান এসব কিছু করে প্রতিটি সংশয়পূর্ণ বিষয়ের মাধ্যমে। পরিশেষে তাদেরকে (উম্মাহকে) গোমরাহ করতে সফলও হয়েছে।

ফলে মানুষ হয়েছে বিভ্রান্ত। শয়তান তাদেরকে প্রবৃত্ত অবস্থায় ধ্বংস করেছে। আর তারা তার দলভুক্ত হয়েছে। মানুষ নাজাত ও মুক্তির পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে। যদ্দরুন, আল্লাহ তা‘য়ালা তাদের মান-মর্যাদা হ্রাস করেছেন এবং তারা লৌকিকতাকারীতে পরিণত হয়েছে। তিনি যে সকল বিষয়ে তাদের মুকাল্লাফ বা দায়িত্ব দিয়েছিলেন তারা তা থেকে হয়েছে বিমূখ।

তাদেরকে যদি আহবান করা হয় তারা নাক ছিটকায়, অবজ্ঞা করে। যদি উপদেশ দেয়া হয় উপহাস করে। যদি জিজ্ঞাসিত হয় বিপথগামী হয়। এরাই ঐ সকল লোক যারা দীন-ইসলামকে বিভক্ত করেছে। বিভিন্ন দলের সৃষ্টি করেছে। ফলে একে অপরকে মন্দ উপাধিতে তারা সম্বোধন করে এবং প্রবৃত্তির কামনায় একে অপরকে সাহায্য করে ।

অতএব প্রবাসীর রূপে ইসলাম যেমন যাত্রা শুরু করেছিল তেমনিই প্রত্যাবর্তন করবে।

সুতরাং ঝুড়ি ভরা তরবারি, ভীতিকর পরিবেশ আর জান-মালের ক্ষতির কারণে আশ্চার্যান্বিত হবার কী আছে!? বিভ্রান্তিতে ডুবে যাবার পরও কী বিপদ ছাড়া অন্য কিছু আশা করা যায়!? যে পর্যন্ত না আল্লাহ তা‘য়ালা আমাদের ব্যাপারে যা চান তার ফায়সালা করেন। তিনি তো সর্বোত্তম বিচারক।

অতীতের তালিবুল ইলম যেমন ছিল এবং আমরা যেমন আছি।

অতীতের তালিবুল ইলম যারা ছিল তারা শুনতো, জানার জন্য, জানতো আমল করার জন্য। ফিকাহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করতো নিজে উপকৃত হওয়ার জন্য ও অপরকে উপকৃত করার জন্য। আর বর্তমানকালের তালিবুল ইলম শোনে জমা করার জন্য, জমা করে স্মরণ রাখার জন্য, আর মুখস্থ করে প্রতিদ্বন্দিতা ও গর্ব- অহংকারের জন্য।

ফেকাহ শাস্ত্রের বিতার্কিকগণ ইখতেলাফ করতেন বাস্তবতার দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ, প্রকাশ্যে ব্যবহৃত এবং এমন সব বিষয় নিয়ে যার দায় মানুষের উপর বর্তায় । ফলে আল্লাহ তা‘য়ালা তার মাধ্যমে বক্তা ও শ্রোতা উভয়কেই উপকৃত করতেন।

অপরদিকে এখন অধিকাংশ ইখতেলাফ হয় অত্যন্ত সুক্ষ্ম ও অস্পষ্ট এবং অবাস্তব ও অতিক্রান্ত বিষয়ে। তন্মধ্যে লিখন ও হস্তলিপির হুকুম, লেআনের হুকুম, বিবাহিতকে (ব্যভিচারের দরুণ) রজম প্রদানের হুকুম ইত্যাদি। আর তাতে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হয় সুক্ষ্মাতিসুক্ষ্ম বিষয়ের প্রকাশ ও বিস্ময়কর বস্তুর উদ্ঘাটন এবং পূর্ববর্তীদের রায় খণ্ডন করা ও জবাব প্রদান।

যার কারণে অবস্থা এই দাঁড়িয়েছে যে, এই লোক আবূ হানীফাকে রদ করে, ঐ লোক মালেককে রদ করে, আরেকজন শাফীকে রদ করে। কথার চাকচিক্য ও ছল-চাতুরীর চমৎকারিত্বের মাধ্যমে। তাও আবার এমনভাবে যে, যেন সে এ কথা জানেই না যে, যখন সে পূর্ববর্তীজনকে রদ করল স্বীয় ছল-চাতুরীর মাধ্যমে (যে কিনা আল্লাহ তা‘য়ালার নিকট সঠিক পথেই ছিল) তখন যুগ-যুগ ধরে তার মতের উপর আমল করে আসা মানুষগুলোকে সে পাপী বলে প্রমাণিত করল। 

কী উদ্বেগের ব্যাপার! 

এই লোক সালফে সালেহীনের রায় প্রদানের নিন্দা করছে, অথচ সে নিজেই আবার রায় প্রদান করছে। আল্লাহ তা‘য়ালার দীনে বেদআত সৃষ্টি করার নিন্দা করছে, অথচ সে নিজেই বেদআতের জন্ম দিয়ে চলেছে!!

অতীতের বিতার্কিকগণ ইখতেলাফ করতেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মধ্য দিয়ে ধৈর্যের মান নিরুপণ, একজনকে অপরজনের উপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান, কু-বুদ্ধি, কু-মন্ত্রনা ও নফসের সাথে মুজাহাদা করা, প্রবৃত্তিকে দমন করা ইত্যাদি বিষয়ে। আর বর্তমানে বিতার্কিকগণ ইখতেলাফ করেন- استطاعة , تولد ,طفرة , جزء , عرض , جوهر ইত্যাদি বিষয়ে। যেগুলো ধর্মতত্ত্ব ও দর্শনের পারিভাষিক শব্দ। আর এই সকল পরিশ্রমী ও অধ্যবসায়ী ব্যক্তিবর্গ পদাঘাত করে চলেছে আঁধারে, অন্ধকারে। ফলে তাদের কারণে সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন পথ ও পন্থার। প্রবৃত্তি তাদের পরিচালনা করেছে ধ্বংসের লাগাম ধরে।

সংঘটিত ইখতেলাফ গুলোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নমুনা

সংঘটিত ইখতেলাফ গুলোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নমুনা আছে। যা এমন সব মুহাদ্দিসীনে কেরামের সাথে খাস যারা সবর্দা সুন্নতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পূর্ণরূপে আঁকড়ে ছিলেন। সবসময় পরিপূর্ণভাবে সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন এবং তাবে তাবেয়ীনের অনুসরণ করে গিয়েছেন। তারা প্রতিটি ক্ষেত্রেই শত্রুতা গোপন রাখতেন কিন্তু বন্ধুত্বের ভান করতেন না। তাদের থেকে উপহার-উপঢৌকন গোপন রাখা হতো, অথচ নিজেরা লুকিয়ে থাকতেন না। লোকদের কাছে নিজেদের দাবীর কথা প্রচার করতেন কিন্তু নিজকে ঢেকে রাখতেন না। বস্তুত: যারা ইলমকে উচু করে তুলে ধরেন তারাই ইলমের কারণে উপরে উঠে যান। আর যারা ইলমকে নিচু জ্ঞান করে তারা নিজেরাই নিজেদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করে। একজন ইলম অন্বেষা সওয়ারী কেবল তাদের আলোচনাই বহন করে বেড়ায় যারা এই ইলমের আলোচনা করতেন।

অবস্থা এমনই ছিল কিন্তু একটা সময় আসলো যখন শয়তান এই মানুষগুলোকে এমন একটি মাসআলার মাধ্যমে ধোঁকা দিল আল্লাহ তা‘য়ালা দীনে শরীয়তের মাঝে যার কোন মৌলিক কিংবা শাখাগত কোন ভিত্তি রাখেননি।

// লেখক এখানে মাসআলায়ে “লফ্জ বিল কুরআন” এর ইখতেলাফ উদ্দেশ্য করেছেন। অর্থাৎ লফ্জ বিল কুরআন মাখলুক না গায়রে মাখলুক এ নিয়ে ছিল ইখতেলাফ।//

যেই বিষয়ের অজ্ঞতায় কোনরূপ ক্ষতি ছিল না তবে হ্যাঁ; তা জানার মাঝে ফযিলত রয়েছে বটে। ফলে সেই মাসআলার অনিষ্টতা বৃদ্ধি পেল। গুরুত্বও বেড়ে গেল তার। এমনকি তাদের জামাতকে বিভক্ত করে দিল। বিক্ষিপ্ত করে দিল তাদের কথা-বার্তাকে। দুর্বল করে দিল তাদের কর্তৃত্ব ও ক্ষমতাকে। তাদের হিংসুকদের করল আনন্দিত। এই মাসআলাটিই তাদের ধর্মতত্ত্ববিদ ও দার্শনিকদের শত্রুতা তথা তাদের হাত ও মুখের কঠোরতার জন্য যথেষ্ট হয়ে গেল। যার কারণে একজন অধ্যবসায়ী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী তাদের নিয়ে হাসি-ঠাট্রা করত। যখন তাদের কাউকে দেখত তখন তাকে কাফের বলত।১ লা‘নত দিত। সে তাদের ভিন্নমতালম্বী ও বিপরীত মনে করত। অথচ তারা কিন্তু ছিল এক মতের, অভিন্ন ও একত্রিত। 

আর অপরদিকে সেই শিক্ষার্থী নিজেকে মনে করে যে, তাদের মাঝে যুদ্ধ চলছিল এখন সে তাদের জন্য শান্তি হয়ে আবির্ভূত হয়েছে। (অথচ বিষয়টি তো এমন নয়) ইমাম ইবনে কুতাইবার আলোচনা এখানেই সমাপ্ত।

পূর্ববর্তীদের মতামতকে রদ করা সম্পর্কে আল্লামা কাউছারী রহ. পর্যালোচনা।

আমার শাইখ আল্লামা কাউসারী রহ. ইমাম ইবনে কুতাইবার (এইটা ইমাম আবূ হানীফাকে রদ করে, এইটা ইমাম মালেককে রদ করে, অন্যটা ইমাম শাফীকে রদ করে) এই উক্তির উপর যে পর্যালোচনা করেছেন তা নিম্নরূপ:

সমপর্যায়ের আহলে ইলমগণ চিরকালই তারা পরস্পরে একে অপরের মতামতকে খণ্ডন করতেন সত্যকে বিশুদ্ধ করণের জন্য। আল্লাহ তা‘য়ালা তাদের যে ইলম ও বুঝ দান করেছেন তার কম-বেশীর উপর ভিত্তি করে। কিন্তু মানুষের সামনে উত্থাপিত বিষয়াদির প্রতি এই সকল ইমামগণই ছিলেন সর্বাপেক্ষা আগ্রহী। আবার তারাই তাদের সামনে উত্তম প্রমাণাদির মাধ্যমে যে সকল জবাব আসতো সেগুলোর সূচনাকল্পে ছিলেন সবচেয়ে উদার। সঠিক বিষয় বুঝে উঠতে তারা এতই দ্রুততর ছিলেন যে তাৎক্ষনিক সকলের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যেত। সম্ভবত: এটা ছিল ইলমের প্রতি তাদের ইখলাস এবং আল্লাহ তা‘য়ালাকে তার দীনি আহকামের ক্ষেত্রে ভয় করতেন বলেই।

ফলশ্রুতিতে আল্লাহ তা‘য়ালা তাদেরকে পুরষ্কৃত করেছেন। 

সুদীর্ঘ সময় আর দেশ-দেশান্তরের দূরত্ব মাড়িয়ে তাদের ইলমের প্রভাব মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন দূর-দূরান্তের মুসলিম অঞ্চলে। এমনকি উম্মাহর অধিকাংশ উলামায়ে কেরাম তাদেরকে “ইমামত ও আদর্শের” স্বিকৃতি প্রদান করেছেন। অপরদিকে যারা অশান্তি সৃষ্টিকারী; নিজেদের পঞ্চ-ইন্দ্রিয়ের বুঝ লাভে অক্ষম ও (ইলমের মূল স্রোত থেকে) বিচ্ছিন্ন, সেসকল লোক নিজেদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাদের সুউচ্চ মান-সম্মানকে উপেক্ষা করত; মর্যাদা ক্ষুন্ন করে তাদের মহান অনুগ্রহকে অস্বীকার করত। তারা নিজেদের কাজ সর্বোচ্চ পর্যায়ে ও সাধ্যমত করা সত্ত্বেও সংশোধন শক্তি দ্বারা তাদের বিরূদ্ধে বিক্ষোভকারী তা নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে আত্মপ্রকাশ করেছে। অস্ত্রের মত কিছু রদকরণ, জবাব প্রদান বিষয়াষয় নিয়ে। 

কিন্তু তাদের সহযোগীরা সেগুলোর কারণে কোন কঠোরতা করেননি। ইবনে আবী শাইবা যেভাবে ইমাম আবূ হানীফাকে রদ করেছে, ইবনে উলাইয়া মালেক এর সম্পর্কে সংকলিত গ্রন্থে যেমন বর্ণনা করেছেন কিংবা ইবনে আব্দুল হাকাম শাফীর সম্পর্কে যেমন কিতাব লিখেছেন। যারা কেউ-ই- এই সকল ইমামগণের সঙ্গী-সাথীদের সংকলিত চমৎকার সব গ্রন্থের গুরুত্বপূর্ণ কিতাবাদীর প্রতি লক্ষ্য করেনি। সেসব গ্রন্থে যে সকল রদ বা খণ্ডন রয়েছে সেগুলোর ব্যাপারে অবগত হয়নি। পূর্ববর্তীকালে যারা কোন বিষয়কে রদ বা প্রত্যাখ্যান করেছেন তাদের সাথেও ছিলেন অসম্পৃক্ত।

এহেন আচরণ ছিল কেবল নিজেদের অনুসারীদেরকে বিভ্রান্ত করার জন্য যে, এই সকল রদ বা জবাব প্রদান তাদের নতুন আবিষ্কার। (আগে কেহ ইহা জানতো না) আর তারা এই সকল ফোকাহায়ে কেরামকে রদ করার যোগ্য ও উপযুক্ত বনে গেল।

প্রত্যাখ্যানের এই নীতিটাকেই লেখক, ইবনে কুতাইবা অপছন্দ করেছেন এবং স্বীয় যুগে এর সর্বপ্রথম আত্মপ্রকাশের কারণে নিজের কষ্ট ব্যক্ত করেছেন। অনেক বড় শিক্ষা রয়েছে এতে। আমার শাইখ কাউসারীর আলোচনা এখানেই সমাপ্ত। رحمه الله تعالى

আব্দুল ফাত্তাহ আবূ গুদ্দাহ রহ. এর আরবী ভাষায় রচিত এই কিতাবটি পড়তে এখানে যান এবং সরাসরি লেখক সম্পর্কে জানতে এখান থেকে ঘুরে আসুন। 

টীকা ও সংযুক্তি আলোচনা

(১) আমার শাইখ আল কাউসারী (রহ.) ইখতেলাফ এর উপর একটি পর্যালোচনা করেছেন। যার মূল উদ্ধৃতি:, এর মাঝে তথা মুসলমান মুসলমানকে কাফের বলার মাঝে যা রয়েছে তা হলো মুসলমান অমুসলমান হওয়াকে শিথিলকরণ। সাথে সাথে এ ব্যাপারে রয়েছে কঠোর ভীতি প্রদর্শন। এতদসত্ত্বেও যার জন্য আফসোসের সীমা ছাড়িয়ে যায়, তা হলো সেই যুগে এই ধরনের কথা প্রকাশ হওয়া।

তবে এর পরবর্তী সময়ে যারা নিজেদেরকে ইলমে হাদীসের সাথে সম্পৃক্ত বলে গন্য করবে তাদের অবস্থা কী হবে! এতকিছুর পরও যে সর্বপ্রথম কাজটি করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে তা হলো যে ব্যক্তি হাদীসের জ্ঞান লাভ করবে তাকে হতে হবে উদার, নমনীয়। মুসলমানদের প্রতি তার আচরণ হবে কোমল। অভদ্রোচিত, অশ্লীল ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথা-বার্তা থেকে তাকে দুরত্ব বজায় রাখতে হবে। যে বিষয়ে কোন কাজ নেই তাতে যে কোন প্রকারের অনুসন্ধান বর্জন করতে হবে। যেন সে স্বয়ং নবী করীম স. এর সাথেই জীবন-যাপন করছে। উম্মতকে পথ প্রদর্শনের কাজে তাঁর সীরাত ও জীবনী দ্বারাই সে প্রতিপালিত হচ্ছে।

আর যারা বাতিল ও অনর্থক বিষয়ের গভীরে প্রবেশ করবে, রূঢ়তা ও কঠোরতা দেখাবে, অভদ্রতা ও অশ্লীলতা ছড়াবে আল্লাহ তা‘য়ালার সৃষ্টির মাঝে নবীয়ে হুদার সুন্নতের প্রতি ও তার সীরাতের ব্যাপারে তারাই সর্বাপেক্ষা মূর্খ এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সত্যি সত্যি সম্পৃক্ত হওয়া থেকে সবচেয়ে দূরে থাকবে। 

(২) প্রিয় পাঠক! এই কথাটির সামনে একটু থামুন এবং দীর্ঘক্ষণ ভাবুন। পরবর্তীকালের এই যুগে আকীদাগত জুযী বা আনুষাঙ্গিক মাসায়েল কিংবা ফরঈ বা শাখাগত ইজতিহাদী মাসায়েলের মত গুরুত্বহীন ও গৌণ বিষয়ে ইখতেলাফ এর উপর ভিত্তি করে আপনি যে সকল বিষয়, যেমন কাফের বলা, লা‘নত করা, বিদআতী বলা, ভ্রান্ত বলা ইত্যাদি যা কিছু দেখছেন তার সাথে এ কথাটুকুর একটু তুলনা করুন আর দেখুন গতকালের সাথে আজকের কত মিল!!

Related Articles

পূর্ববর্তী ইমামগণের মতভিন্নতায় বিভেদ ছিল, বিচ্ছিন্নতা নয়!

সুপ্রিয় পাঠক! সামান্য মত পার্থর্ক্যরে জের ধরে সাধারণ সমাজের কথা বলা তো বাহুল্যই, আমাদের ওলামা কেরামের মাঝেও যে কী ধরনের গিবত-পরনিন্দা, বকাবাজি আর গালবাজি দেখা…

ফার্সি ক্রিয়াপদ বা صيغه গঠন পদ্ধতি। এক পেজেই শুরু থেকে শেষ।

বিষয়ঃ فعل ماضي বা অতীত কাল প্রশ্নঃ فعل ماضي বা অতীতকালের ক্রিয়া কাকে বলে? উত্তরঃ فعل এর যে রূপ দ্বারা অতীতকালে কোন কাজ হয়েছে বা…

পিতা-মাতার প্রতি সদাচারণ: একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত ও শিক্ষা।

সুপ্রিয় পাঠক! এই লেখাটি “বিষ্ময়কর পুরস্কার” শিরোনামে মাসিক “আদর্শ নারী” পত্রিকাতে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। প্রায় ২ যুগ পূর্বে। আমার শিক্ষা জীবনের কোন এক সময়। বছর…

Responses

Your email address will not be published. Required fields are marked *