নির্ধারিত সময়ের পূর্বে অনিচ্ছাকৃত ইফতার করে ফেললে করণীয় কি?

السلام عليكم ورحمة الله وبركاته

মাননীয় মুফতী সাহেব, আমার জানার বিষয় হলো_

প্রশ্নঃ নির্ধারিত সময়ের পূর্বে অনিচ্ছাকৃত ইফতার করে ফেললে করণীয় কি?

প্রশ্নের উৎস: কোন এক রমজানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী ঢাকায় ইফতারের সময় ছিল সন্ধ্যা ৬টা ৪৬ মিনিট। কিন্তু বিটিভিতে ৬টা ৩৫ মিনিটেই মাগরিবের আযান প্রচার করে। উক্ত আযান শুনে অনেক রোযাদার ইফতার করে ফেলেছেন। এখন আমার প্রশ্ন হলো ঐ সকল রোযাদার ভাই-বোনদের করণীয় কি? কুরআন ও হাদীছের আলোকে “শরঈ বিধান” জানিয়ে বাধিত করবেন।

الجواب باسم ملهم الصدق والصواب

উত্তরঃ উপরোক্ত অবস্থায় যে সকল রোযাদার ভাই-বোন আযান শুনে ইফতার করে ফেলেছিলেন তারা সবাই পরবর্তীতে ঐ রোজার কাযা আদায় করবেন। অর্থাৎ উক্ত রমযান মাসের পর “কাযা রোযা আদায় করার নিয়তে” যে কোন ১দিন রোযা রাখবে। কিন্তু তাদের কারো উপরই “রোযার কাফফারা” ওয়াজিব হবে না।

কারণ, অনিচ্ছাকৃত ও ভুলবশতঃ পানাহার করার দরুন তাদের রোযা ভেংগে গিয়েছে। যার শুধুমাত্র কাযা করা আবশ্যক। অপরদিকে স্বেচ্ছায় রোযা না ভাংগার কারণে তাদের উপর কোন কাফফারা ওয়াজিব হবে না। তবে অবশ্যই “রোযা কাযা আদায়ের দিনটি” রোযার হারাম ও নিষিদ্ধ দিনগুলোর মধ্য থেকে হতে পারবে না।

যে সকল দিনে রোযা রাখা হারাম ও নিষিদ্ধ।

  • ঈদুল ফিতরের দিন (১ শাওয়াল)। 
  • ঈদুল আযহার দিন (১০ জিলহজ)।
  • ঈদুল আযহার পরের ৩দিন। অর্থাৎ জিলহজ মাসের ১১, ১২ ও ১৩ তারিখের দিন।

উল্লেখ থাকে যে, অনিচ্ছাকৃত ও ভুলবশতঃ রোযা ভেঙ্গে গেলে দিনের বাকী সময় “পানাহার ও সহবাস” থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব।

الأدلة الشرعية

(শরয়ী দলীলসমূহ)

إِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَقُولُ فِي كِتَابِهِ {وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ثُمَّ ‌أَتِمُّوا ‌الصِّيَامَ ‌إِلَى ‌اللَّيْلِ}

  • সূত্র: আল কুরআন
  • সূরা: বাকারা
  • আয়াত নং: ১৮৭

حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ: حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ فاطمة، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عنهما قَالَتْ: أَفْطَرْنَا عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ‌يَوْمَ ‌غَيْمٍ، ‌ثُمَّ ‌طَلَعَتِ ‌الشَّمْسُ. ‌قيل ‌لهشام: ‌فأمروا ‌بالقضاء؟. قال: لابد مِنْ قَضَاءٍ. وَقَالَ مَعْمَرٌ: سَمِعْتُ هِشَامًا: لَا أدري اقضوا أم لا.

  • সূত্র: সহীহ বুখারী
  • হাদীস নং: ১৮৫৮
  • খন্ড: ২পৃষ্ঠা: ৬৯২

حَدَّثَنَا ‌هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللهِ ، ‌وَمُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ الْمَعْنَى قَالَا: نَا ‌أَبُو أُسَامَةَ ، نَا ‌هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ ‌فَاطِمَةَ بِنْتِ الْمُنْذِرِ عَنْ ‌أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ قَالَتْ: «أَفْطَرْنَا يَوْمًا فِي رَمَضَانَ فِي غَيْمٍ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ طَلَعَتِ الشَّمْسُ قَالَ أَبُو أُسَامَةَ قُلْتُ لِهِشَامٍ: ‌أُمِرُوا ‌بِالْقَضَاءِ قَالَ: وَبُدٌّ مِنْ ذَلِكَ»

  • সূত্র: সুনানে আবী দাঊদ
  • হাদীস নং: ২৩৫৯
  • খন্ড: ২পৃষ্ঠা: ২৭৯

حدثنا علي بن مسهر عن الشيباني عن (جبلة) بن سحيم عن علي ابن حنظلة عن أبيه قال: شهدت عمر بن الخطاب في رمضان وقرب إليه شراب فشرب بعض القوم وهم يرون أن الشمس قد غربت، ‌ثم ‌ارتقى ‌المؤذن ‌فقال: ‌يا ‌أمير ‌المؤمنين ‌واللَّه ‌للشمس ‌طالعة ‌لم تغرب، فقال عمر: منعنا اللَّه من شرك مرتين أو (ثلاثًا)، يا هؤلاء من كان أفطر فليصم يومًا مكان يوم، ومن (لم يكن) أفطر فليتم حتى (تغرب) الشمس

  • সূত্র: মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা
  • হাদীস নং: ৯২৯৩
  • খন্ড: ৫পৃষ্ঠা: ৫০৫

(وإن ‌أفطر ‌خطأ) كأن تمضمض فسبقه الماء أو شرب نائما أو تسحر أو جامع على ظن عدم الفجر… (قضى) في الصور كلها (فقط)

  • সূত্র: আদ্দুররুল মুখতার
  • খন্ড: ১
  • পৃষ্ঠা: ১৪৬

(وَإِنْ ‌أَفْطَرَ ‌خَطَأً) وَهُوَ أَنْ يَكُونَ ذَاكِرًا لِلصَّوْمِ فَأَفْطَرَ مِنْ غَيْرِ قَصْدٍ لَهُ كَمَا إذَا تَمَضْمَضَ فَدَخَلَ الْمَاءُ فِي حَلْقِهِ (أَوْ مُكْرَهًا) وَفِي لَفْظِ أَفْطَرَ إشَارَةً إلَى فَسَادِ صَوْمِهِ (أَوْ أَكَلَ نَاسِيًا وَظَنَّ أَنَّهُ فِطْرُهُ فَأَكَلَ عَمْدًا أَوْ احْتَقَنَ أَوْ اسْتَعَطَ) … (قَضَى فَقَطْ)

جَزَاءً لِقَوْلِهِ، وَإِنْ أَفْطَرَ خَطَأً إلَى آخِرِهِ (وَالْأَخِيرَانِ) أَيْ مَنْ تَسَحَّرَ وَمَنْ أَفْطَرَ يَظُنُّ الْيَوْمَ لَيْلًا (يُمْسِكَانِ بَقِيَّةَ يَوْمِهِمَا كَمُسَافِرٍ أَقَامَ وَحَائِضٍ أَوْ نُفَسَاءَ طَهُرَتْ وَمَجْنُونٍ أَفَاقَ وَمَرِيضٍ صَحَّ وَصَبِيٍّ بَلَغَ وَكَافِرٍ أَسْلَمَ وَكُلُّهُمْ يَقْضُونَ إلَّا الْأَخِيرَيْنِ)

  • সূত্র: দুরারুল হুক্কাম শরহে গুরারুল আহকাম
  • খন্ড: ১
  • পৃষ্ঠা: ২০২

ففي (الخلاصة) أجمعوا أن من ‌أفطر ‌خطأ أو أكل متعمدًا أو مكرهًا أو أكل يوم الشك ثم ظهر أنه من رمضان أنه يلزمه التشبه.

  • সূত্র: আন নাহরুল ফায়েক শরহে কানযুদ্দাক্বায়েক্ব
  • খন্ড: ২
  • পৃষ্ঠা-৩৩

(وَيَجِبُ الْقَضَاءُ فَقَطْ) بِغَيْرِ كَفَّارَةٍ (لَوْ ‌أَفْطَرَ ‌خَطَأً) كَمَا إذَا تَمَضْمَضَ فَدَخَلَ الْمَاءُ حَلْقَهُ

  • সূত্র: মাজমাঊল আনহুল শরহে মুলতাক্বাল আবহুর
  • খন্ড: ১
  • পৃষ্ঠা-২৪১

উপরে আমি শরঈ বিভিন্ন দলীল-প্রমানীদির ভিত্তিতে আপনার প্রশ্নের পরিপূর্ণ ও সর্বোত্তম উত্তর দেয়ার চেষ্টা করেছি মাত্র।

والله أعلم بالصواب

Related Articles

ফার্সি ক্রিয়াপদ বা صيغه গঠন পদ্ধতি। এক পেজেই শুরু থেকে শেষ।

বিষয়ঃ فعل ماضي বা অতীত কাল প্রশ্নঃ فعل ماضي বা অতীতকালের ক্রিয়া কাকে বলে? উত্তরঃ فعل এর যে রূপ দ্বারা অতীতকালে কোন কাজ হয়েছে বা…

পূর্ববর্তী ইমামগণের মতভিন্নতায় বিভেদ ছিল, বিচ্ছিন্নতা নয়!

সুপ্রিয় পাঠক! সামান্য মত পার্থর্ক্যরে জের ধরে সাধারণ সমাজের কথা বলা তো বাহুল্যই, আমাদের ওলামা কেরামের মাঝেও যে কী ধরনের গিবত-পরনিন্দা, বকাবাজি আর গালবাজি দেখা…

রোযা অবস্থায় রক্ত দেয়ার হুকুম কি? এতে কি রোযা ভেঙ্গে যায়?

السلام عليكم ورحمة الله وبركاته মাননীয় মুফতী সাহেব প্রশ্ন: সামনে রমযান মাস। আমার কোন একজন আত্মীয়ের জন্য রক্ত দিতে হতে পারে। তাই আমার প্রশ্ন হলো-…

চরমোনাই পীর সৈয়দ ফজলুল করীম রহ. এর জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো।

সুপ্রিয় পাঠক! ২৬ নভেম্বর ২০০৬ সাল। আমি বন্ধুদের সাথে মরহুম চরমোনাই পীর সাহেব সৈয়দ ফজলুল করীম রহ. এর জানাযায় উপস্থিত হতে পেরেছিলাম। জানাযা শুরুর পূর্বে…

বর্তমানে তারাবীহ নামায ৮ রাকাত নয়: আল্লামা ইবনে তাইমিয়া রহ.।

আমি গত ২০/০৩/২০২৩ ইং তারিখে একটি স্যোশাল মিডিয়াতে ৮ ও ২০ রাকাত তারাবীহ নামায নিয়ে আল্লামা আহমাদ ইবনে তাইমিয়া রহ. এর একটি উদ্ধৃতি দেখতে পাই।…

Responses

Your email address will not be published. Required fields are marked *